শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধি, ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও বেশি | যশোর জার্নাল অভয়নগরে ঈদ মেলায় ফুচকা খেয়ে অসুস্থতা: দোকানি গ্রেফতার | যশোর জার্নাল সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা: বিচারের অপেক্ষায় এক যুগ | যশোর জার্নাল নরসিংদীতে গণপিটুনির প্রতিবাদ করায় দুই ভাইকে হত্যা | যশোর জার্নাল যশোরে ঈদের দিন সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত চারজন | যশোর জার্নাল যশোরে যুবকের লাশ উদ্ধার: পাশে মোটরসাইকেল ও কাঠের টুকরা |যশোর জার্নাল যশোরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেফতার | যশোর জার্নাল সড়কে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সাথে ইফতার করলেন পুলিশ সুপার যশোর | যশোর জার্নাল যশোরে শিশু অপহরণের মূলহোতা আটক, মুক্তিপণের টাকা উদ্ধার | যশোর জার্নাল নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন যশোর জেলা পুলিশ | যশোর জার্নাল

কেশবপুরে দক্ষিণ আমেরিকার ড্রাগন ফল চাষ করে স্বাবলম্বী তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান রাজু | যশোর জার্নাল

কেশবপুরে দক্ষিণ আমেরিকার ড্রাগন ফল চাষ করে স্বাবলম্বী তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান রাজু

ইমরান হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাণিজ্যিকভাবে কেশবপুরে দক্ষিণ আমেরিকার
ড্রাগন ফল চাষ করে এখন সাবলম্বী হয়েছেন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রাজু। বিক্রয় করেছেন ১২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, অন্যের নিকট থেকে ৩ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ৩৩ শতক জমিতে চাষ করেছেন ড্রাগন ফল। কেশবপুর পৌরসভার ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছোট ছেলে ২৪ বছর বয়সি তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান রাজু, পড়াশোনা করেন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক শেষ বর্ষে। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, যশোরের কালিগঞ্জ থেকে ৪ হাজার ড্রাগন ফলের চারা এনে পরিবারের সহযোগিতায় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে লিজকৃত ৩৩ শতক জমিতে চারা রোপণ করেন। যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে উপজেলার আলতাপোল তেইশ মাইল গ্রামে গড়ে তোলেন এই ড্রাগন বাগান। ১ হাজার সিমেন্টের খুঁটির সঙ্গে টায়ার ও রড ব্যবহার করে তার চারপাশ দিয়ে লাগিয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ড্রাগন ফল গাছ। ২০২২ সালের জুন মাসে প্রাথমিকভাবে কিছু ফল পেলেও এবার বাণিজ্যিকভাবে তিনি ড্রাগন বিক্রি শুরু করছেন। এপ্রিল মাস থেকে এ পর্যন্ত কোনো কোনো খুঁটিতে লাগানো গাছ থেকে ৩০ কেজি ফলও পেয়েছেন তিনি। এবছরের চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। উল্লেখ্য (দক্ষিণ আমেরিকা থেকেই মূলত এই ফলের আমদানি। কিন্তু এই ফলের নামের কারণে ভারতে অনেকে মনে করে এই ফল এসেছে চীন দেশ থেকে। ভারতে প্রতিবেশী চীনাদের সাথে ড্রাগন নামটা জড়ানোর সংস্কৃতি অনেক দিনের।) বর্তমানে কেশবপুরের অধিকাংশ ফলের দোকানে রাজুর বাগানের ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এসব ফল পৌঁছে যাচ্ছে যশোর, চুকনগর, খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রির আশা রয়েছে রাজুর। নিজে উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি তিনি সৃষ্টি করেছেন ৫ জনের কর্মসংস্থান। পরিবারের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে জমি লিজ নিয়ে পড়ালেখার ফাঁকে এ ড্রাগন ফলের বাগানটি করেছেন। এর পেছনে ব্যয় করেছেন প্রায় ১০/১২ লাখ টাকার মতো। বাগানে ৩ থেকে ৪ ধরনের ড্রাগন ফলের জাত রয়েছে। এসব গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে হাজারো হলুদ ও লাল রঙের ফল। পড়াশোনার ফাঁকে নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর এ পরিশ্রম। ড্রাগন বাগানে প্রচুর ফল এসেছে। আকারভেদে একটি ফলের ওজন পেয়েছেন ৩’শ গ্রাম থেকে ৬’শ গ্রাম পর্যন্ত। বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন পাইকারি মূল্য ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রয় করছেন। মৌসুমের শুরুতে কেজি প্রতি ৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছিলেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রথমবারেই ফল বিক্রি করে তার মূলধন উঠে এসেছে। বর্তমান সময়ে তিনি তার বাগানের যে ফল রয়েছে সেটি বিক্রয় করে শ্রমিকের পারিশ্রমিক ও পরিবহন খরচ বাদে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। মেহেদী হাসান রাজু বলেন, কোনো ধরনের ক্ষতিকারক উপাদান না দিয়েই বাগানের ড্রাগন ফল পাকানো হয়। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মেই ফল পাকলে গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। সড়কের পাশে বাগানটি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার মানুষ দেখতে আসেন। বাগানের পাশে কোনো দরিদ্র ও অসহায় মানুষ এলে তাঁদের বিনা মূল্যে ফল খাওয়ান তিনি। রাজুর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, পড়াশোনা শেষে চাকরির পেছনে যেন ছুটতে না হয়, এ জন্য আগেভাগেই নিজেকে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছেন। একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তিনি বলেন, আমি চাই লেখা পড়া শেষ করে সকলে এভাবে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে যেন গড়ে তুলতে পারে। বর্তমানে রাজুর বাগানে নিয়মিত ৫ জন শ্রমিক ড্রাগন বাগানে পরিচর্যার কাজ করেন। তাঁদের প্রতি মাসে ৯ হাজার টাকা করে মজুরি দেওয়া হয়। বাগানে কাজ করার সময় আলতাপোল গ্রামের মোনতাজ সরদার (৬২) বলেন, ড্রাগন বাগান দেখভাল করেন তিনি।ভোরবেলায় বাগানে এসে ড্রাগন ফুলের পরাগায়ন ঘটাতে সাহায্য ও বাগান পরিচর্যা করা, ফল তোলাসহ সেগুলো বাজারজাত করার প্রস্তুত করেন। শ্রমিক আব্দুর রশিদ (৫৪) বলেন, প্রতিদিন ৩০০ টাকা মজুরিতে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত এ বাগানে কাজ করেন। এই বাগানের ফলের ভেতর থাকলে তাঁর মনটাও আনন্দে থাকে। পরিবার নিয়ে তিনি ভালোই রয়েছেন। ড্রাগন ফলের এ বাগানটি দেখতে এসেছিলেন কেশবপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসাইন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে পুষ্টিগুণসম্পন্ন ড্রাগন ফল চাষ করে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী রাজু সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। অন্যের জমি হারি (লিজ) নিয়ে তাঁর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখে খুবই ভালো লেগেছে। রাজু নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তাঁর বাগানে যে সমস্ত শ্রমিকেরা কাজ করছে তাদের পরিবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যদি বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন বাগান তৈরিতে মন দেয় তাহলে তারাও লাভবান হবে, দেশও উপকৃত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত